ডা.এনামের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা পেলো সাভারবাসী

জাহিন রিয়াজ, সাভার থেকে: সৌভাগ্য সাভারবাসীর। এক অর্থে ঐতিহাসিক দিন-ও। সাভারের সাংসদ ডা.এনামুর রহমানের মাধ্যমে আজ সাভারবাসী সরাসরি পেলো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিক শুভেচ্ছা। কেবল সাভারবাসীই নন,তার আগে দলের সকল নেতাকর্মিদের শুভেচ্ছা জানান বঙ্গবন্ধু কন্যা।

সাভারের হেমায়েতপুরে চামড়া শিল্প নগরীর উদ্ধোধন করতে মঙ্গলবার দুপুরে সাভারবাসীর সাথে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ঢাকা জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মোহাম্মদ ফেরদৌস খানের সঞ্চালনায় সেই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সাথে কথা বলার সুযোগ পান চামড়া শিল্প সংশ্লিষ্টরা ছাড়াও ঢাকা-১৯ আসনের সাংসদ ডা.এনামুর রহমান।

যদিও সেই চামড়া শিল্প নগরী সংসদীয় সীমানা হিসেবে ঢাকা-২ (কেরানীগঞ্জ-কামরাঙ্গীরচর) আসনের অধীনে। যে আসনের বর্তমান সাংসদ বর্তমান খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম।

সেই অনুষ্ঠানে মধ্যমনি হিসেবে উপস্থিত হন সাভারের সাংসদ ডা.এনামুর রহমান। ভিডিও কনফারেন্সের শেষ পর্যায়ে সঞ্চালক ঢাকা জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মোহাম্মদ ফেরদৌস খান প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রথমে বাংলাদেশ ট্যানারস এসোসিয়েশনের (বিটিএ) সভাপতি শাহীন আহমেদ ও পরে স্থানীয় সাংসদ ডা.এনামুর রহমানের নাম উল্লেখ করে তাদের কথা বলার বিষয়ে অনুমতি চান।

প্রধানমন্ত্রী দ্বিতীয় নামটিই প্রথমে বেছে নিয়ে বলেন,সংসদ সদস্যই বলুক কিছু।ডাক্তার মানুষ। এ সময় মিলনায়তন জুড়ে হাসির ঢেউ ওঠে।

মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে সালাম দিয়ে ডা.এনাম বলেন,‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,আজকে চামড়া শিল্প নগরী উদ্ধোধন হওয়ায় আমি সাভারবাসী এবং সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের সকল নেতাকর্মির পক্ষ থেকে আপনাকে জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা আর আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।

আপনি সত্যিই বলেছেন,আপনার দৃঢ় নেতৃত্ব আর বলিষ্ঠতার কারনে হাজারীবাগ থেকে এই ট্যানারী শিল্প সাভারে স্থানান্তরিত হয়েছে।ঢাকাবাসী মুক্তি পেয়েছে ট্যানারী দূষণ থেকে এবং সাভারবাসী পেয়েছে একটি স্বাস্থ্য সম্মত চামড়া শিল্প নগরী।

এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে আমাদের চামড়া ও চামড়া জাতীয় পণ্য রপ্তানী বাড়বে এবং আমরা ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের যে লক্ষ্যমাত্রা দিয়েছি,তা আয় হবে।

প্রধানমন্ত্রীকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ডা.এনাম আরো বলেন,মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,আপনি অনেক স্নেহ দিয়ে,আদর দিয়ে,ভালোবাসা দিয়ে আমাকে সাভারের উন্নয়নে কাজ করার দায়িত্ব দিয়েছেন। আপনার সহযোগিতায় সাভারে অনেক উন্নয়ন হয়েছে। সাভার বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ সরকারিকরণ হয়েছে। অধর চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় সরকারিকরণ হয়েছে। আপনি সাভারের বহু আকাঙ্খিত বিরুলিয়া ব্রিজটি তৈরি ও উদ্ধোধন করে দিয়েছেন। সাভারের রাস্তাগুলো (মহাসড়ক) ফোর লেন হয়েছে। সাভার আশুলিয়ায় সকল জায়গাগুলোতে পাকা রাস্তা হয়েছে। ড্রেনের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নতুন নতুন ভবন হয়েছে। বাউন্ডারী ওয়াল হয়েছে,ওয়াক ওয়ে হয়েছে।বিজ্ঞানাগারের যন্ত্রপাতি আপনি দিয়েছে এবং শেখ রাসেল আইসিটি ল্যাব করে দিয়েছেন,সাভারে সরকারি হাসপাতালে সকল যন্ত্রপাতি দিয়েছেন,এনেস্থেটিস্ট দিয়েছেন।

এ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী ডা.এনামুর রহমানের কথার মধ্যেই বলেন, ‘এ বিষয়গুলো পাবলিকের কাছে বললে ভালো হয়। এমপি সাহেব এই কথাগুলো পাবলিকের কাছে বেশি করে বলেন।যাতে জনগন আবার আমাদের ভোট দেয়,আমরা আবার আসি।’

জবাবে ডা.এনামুর রহমান বলেন, ‘আমরা নেতাকর্মিদের নিয়ে মানুষের কাছে যাচ্ছি,এই কথাগুলো তুলে ধরছি। এবং ইনশালল্লাহ আগামী নির্বাচনে সাভারবাসী বিপুল ভোটে নৌকা প্রতীকে বিজয়ী করে আসনটি আপনাকে উপহার দেবে।

জবাবে ডা.এনামুর রহমানকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন,‘আমি আপনার মাধ্যমে আমাদের সকল নেতাকর্মি ও সাভারবাসী সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।’

অনুষ্ঠানে যোগ দেন সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ রাসেল হাসান,পৌরসভার মেয়র আলহাজ্ব আব্দুল গণি,সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাসিনা দৌলা,তেতুলঁঝোড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফকরুল আলম সমরসহ জেলা,উপজেলা প্রশাসন, শিল্প মন্ত্রনালয়ের কর্মকর্তা কর্মচারীরা।

অনুষ্ঠান শেষে একজন সরকারি কর্মকর্তা জানান,এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমরা সরাসরি দেখতে পেলাম মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে ডা.এনামুর রহমানের আন প্যারালাল গ্রহণযোগ্যতা।

অনুষ্ঠানে হাসিনা দৌলা উপস্থিত থাকলেও প্রধানমন্ত্রীর চামড়া শিল্প নগরী উদ্ধোধন অংশে ক্যামেরা জুম ইনের কারনে তিনি আউট অব ফোকাসে চলে যান।

দলের উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আলী হায়দারের জন্যে হাসিনা দৌলার পাশের চেয়ারটি সংরক্ষিত থাকলেও শেষ পর্যন্ত আলী হায়দার-ও যাননি।

সব মিলিয়ে দিন যেন ছিলো ডা.এনামেরই। অনুষ্ঠান শেষে ডা.এনামুর রহমানের মুখেও ছিলো চওড়া হাসি। বেশ খুশি মনে তাকে বের হতে দেখা যায় অনুষ্ঠানস্থর থেকে।

তবে কি শেষ পর্যন্ত ডা.এনামই হচ্ছেন আগামীতে নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী। এমনই গুঞ্জন ছিলো অনুষ্ঠান শেষে। সপ্তাহ খানেক পরই সব পরিস্কার হবে। এখন কেবল অপেক্ষা।