জেলহত্যা দিবস পালিত

বঙ্গবন্ধু পরিষদের উদ্যোগে জেলহত্যা দিবস উপলক্ষ্যে আজ ৩রা নভেম্বর, ২০১৮ইং শনিবার, সকাল ৯.০০ ঘটিকায় বঙ্গবন্ধু পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ৮৭ বশির উদ্দিন রোড, কলাবাগান, ঢাকা’য় এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন দেশের বরেণ্য বুদ্ধিজীবী ও বঙ্গবন্ধু পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সম্মানিত সাধারণ সম্পাদক ডা. এস. এ মালেক। সম্মানিত আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সভাপতি ও দেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. আবুল বারকাত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও নেপালের সাবেক রাষ্ট্রদূত অধ্যাপক ড. নিম চন্দ্র ভৌমিক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসী বিভাগের সাবেক ডীন অধ্যাপক আ ব ম ফারুক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম এন্ড টেলিভিশন অনুষদের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এ জে এম শফিউল আলম ভূইয়া, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি মুহাম্মদ শফিকুর রহমান, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. খন্দকার মোকাদ্দেস হোসেন, পিএসসি’র সাবেক সদস্য অধ্যাপক ড. আনোয়ারা বেগম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. সাদেকুল আরেফীন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. কাজী সাইফুদ্দিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসী বিভাগের অধ্যাপক ড. ফিরোজ আহমেদ, ঢাকা মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট দীদার আলীসহ দেশের বরেণ্য বুদ্ধিজীবীগণ, বঙ্গবন্ধু পরিষদের কেন্দ্রীয় ও মহানগর কমিটির নেতৃবৃন্দ প্রমুখ।

বঙ্গবন্ধু পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা মোহাম্মদ শহীদুল্লাহর সঞ্চালনায় সভাপতির বক্তব্যে ডা. এস এ মালেক বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হত্যাকান্ড ও জেলহত্যাকান্ড একই ধারাবাহিকতায় সংঘটিত হয়। বিশ্বের ইতিহাসে এই দুটি হত্যাকান্ড মর্মান্তিক ও অত্যন্ত বেদনাদায়ক ঘটনা। জেলখানা নিরাপদ স্থান। সেই জেলখানার ভেতরে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি ও তাদের আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকারীরা অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে মহান মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দানকারী জাতীয় চার নেতাকে নৃশংসভাবে হত্যা করে।

এই জাতীয় চার নেতা আজ জীবিত থাকলে তাদের যোগ্যতা, মেধা ও দেশপ্রেম দিয়ে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা এতদিন সুপ্রতিষ্ঠিত করতে পারতেন এবং জনগণ সেই সুফল ভোগ করত। জাতীয় চার নেতা হত্যা আমাদের দেশ ও জাতির জন্য অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। তাদের অবদান বাঙ্গালি জাতি চিরদিন শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে। ড. আরেফীন সিদ্দিক বলেন, জেল হত্যা জাতির জন্য এক কলঙ্কিত অধ্যায়, বেদনাবিধূর ঘটনা। পাকিস্তানের দোসর ও তাদের আন্তর্জাতিক প্রভূদের কু-পরামর্শে জেলহত্যার মতো বিভীৎস ঘটনা ঘটিয়েছে।

বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ শেখ হাসিনার রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছিলেন বলেই সকল হত্যাকান্ডের বিচার হয়েছে এবং আদালতের রায় কার্যকর করা হয়েছে। অর্থনীতিবিদ ড. আবুল বারকাত বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যা ও জেল হত্যা একই ষড়যন্ত্রের ফসল। ঘাতকরা ভেবেছিল বঙ্গবন্ধু ও তার ঘনিষ্ঠ সহচর জাতীয় নেতৃবৃন্দকে হত্যার মাধ্যমে বাংলাদেশের উন্নয়ন, অগ্রগতি এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বিনষ্ট করা যাবে। কিন্তু তাদের সেই ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। দেশ আবার উন্নয়নের ধারায় প্রবাহমান এবং মুক্তিযুদ্ধের ভুলুন্ঠিত চেতনা আবার স্বমহিমায় উদ্ভাসিত। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা তারই সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সফলভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে।

প্রেসক্লাবের সভাপতি সফিকুর রহমান বলেন, ১৫ আগষ্ট ও ৩রা নভেম্বর জেল হত্যাকান্ড বাঙ্গালীর জাতীয় জীবনে অভিশপ্ত দিন। এই দিনে বাঙ্গিালীর সব অর্জন ধূলিস্যাৎ হয়েছে। গৌরবময় স্বাধীনতার ইতিহাসকে কলঙ্কিত করা হয়েছে। আর এই সব কিছুর প্রেরণা ও শক্তি জুগিয়েছে জেনারেল জিয়া ও খোন্দকার মোশতাক গং এবং পাকিস্তানের এজেন্টরা। এ

কটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিশনের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু হত্যা ও জেলহত্যার মূল মোটিভ খুঁজে বের করে জেনারেল জিয়ার মরণোত্তর বিচার দাবি করেন। অধ্যাপক আ ব ম ফারুক বলেন, গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা বিশ্বের দরবারে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেছেন।

রাষ্ট্রদূত ড. নিম চন্দ্র ভৌমিক বলেন, সকল ষড়যন্ত্র ও হত্যাকান্ডের বিচার করে এবং উন্নয়নের মহাসড়কে বাংলাদেশ পৌঁছে দেওয়ার কৃতিত্ব একমাত্র বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার।

অধ্যাপক ড. শফিউল আলম ভূইয়া বলেন, আদালত কর্তৃক প্রমাণ হয়েছে বিএনপি-জামায়াত সন্ত্রাসী সংগঠন। তারা দেশে শুধুমাত্র জঙ্গীবাদ লালন-পালন করে ও আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয় এবং হত্যা, ক্যু ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে বিধায় এই দলগুলোকে আর কোনোক্রমে রাষ্ট্রপরিচালনার সুযোগ না দেওয়া। চিরদিনের জন্য তাদের বর্জন করা।