তাহলে কবে সাভারে ফিরবেন মুরাদ জং??

জাহিন সিংহ, সাভার থেকে: ঠিক পাঁচ বছর আগের ঘটনা। তখনও মুরাদ জং’র শাসনামল ! তবে বাতাসে গুঞ্জন,ডা.এনাম পেতে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন।
সাভার থানা রোডে মুক্তির মোড়ে মাষ্টার কমিউনিটি সেন্টারে বসেছেন আওয়ামী লীগের নেতারা। ডা.এনামকে ইঙ্গিত করে সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলী হায়দার বললেন,মরলে জানাযায় যে ১০ জন লোক-ও পাবে না,সে নাকি আবার এমপি হবার স্বপ্ন দেখে!

তাচ্ছিল্যপূর্ণ আরো কত কথা!

তবে নিয়তি বড়ই নিষ্ঠুর। সেই মুরাদ জং আর নেই।এমপি হলেন ডা.এনামুর রহমান।

নিয়ম হলো বর্তমান বা সাবেক কোন সাংসদ মারা গেলে জাতীয় সংসদ ভবনে মরহুমের জানাযা অনুষ্ঠিত হয় । মন্ত্রী সাংসদরা মরহুমকে শেষ শ্রদ্ধা জানায়। ক্ষমতাসীন সাংসদ হলে তো কথাই নেই!

রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকেও রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী মরহুমের কফিনে পুষ্পমাল্য দিয়ে সন্মান জানান।

ডা.এনামের রয়েছে হাজারো চিকিৎসক আর কর্মি নিয়ে গড়া এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।

শিক্ষার্থীদের কথা আর নাই বা বললাম!

সেখানে একজন সামান্য পিয়ন মারা গেলেও তার জানাযায় হাজারো সহকর্মি অংশ নেয়।

কথাগুলো বললাম এই কারণে, আসলে সকল প্রশংসা যেমন মহান আল্লাহ’র তেমনি সকল ক্ষমতাও একমাত্র তাঁর। আল্লাহ ছাড়া কেউ ভবিষ্যত বলতে পারে না। সৃষ্টিকর্তা তার সৃষ্টির দাম্ভিকতা আর অহংকার একদমই পছন্দ করেন না। যারা অহংকার করেন তাদের পতন-ও অনিবার্য। সেটাও দেখেছে সাভারবাসী।

মুরাদ জং জমানায় আলী হায়দার ছিলেন এমপির পর একচ্ছত্র ক্ষমতার অধিপতি। মুরাদ নেই,সেই ক্ষমতাটাও নেই। মূল্যহীন।সেই আলী হায়দারকে দলের নেতাদের হাতেই হতে হলো লাঞ্ছিত। নিজ দলের লোকেরাই হামলা করলো বাড়িতে। নিজের জামাতাকেও দৌড়ের ওপর রেখেছে পুলিশ।

আসলে এমনই হয়। ঋতুর মতো ক্ষমতার পরিবর্তনে রং আর রূপ-ও বদলায়। বদলে যায় মানুষের তোষামদির ধরন। আবার ক্ষমতার জন্যে আজকের শক্র কালকের বন্ধু।আর বন্ধু হয়ে যায় ঘোরতর শক্র। যেমন ফিরোজ কবীর।মুরাদ জমানায় ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ফিরোজ কবির ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান।বনিবনা ছিলো না মুরাদের সাথে।সরকারি কর্মকর্তাদের দিয়ে থানায় অভিযোগ করানো হলো। সে সময় পেরেশানী হয়ে ফিরোজ কবিরকে-ও কিন্তু কম নাকাল হতে হয়নি।

তারপরের ইতিহাস সকলের জানা। আওয়ামী লীগ আবারো এলো ক্ষমতায়। অথচ এলেন না কেবলই ফিরোজ কবির।নির্বাচিত হতে পারলেন না উপজেলা চেয়ারম্যান। কারন একটাই, আওয়ামী লীগের অনেকেই চাননি ফিরোজ কবির উপজেলা চেয়ারম্যান হন।

অন্যদিকে সব কটি ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান আর পৌরসভায় মেয়র পদে বসলো আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। উপজেলা থেকেই গুটিয়ে জুগি জঙ্গলে ফিরলেন ফিরোজ কবির।

তার পরাজয়েও কারণ ছিলো না।ফিরোজ কবিরের সাথে আলী হায়দারের এক সময়ে সখ্যতা ছিলো সোনায় সোহাগা। কিন্তু কথায় বলে,অন্ধকার নামলে নিজের ছায়াও অদৃশ্য হয়ে যায়। হলোও তাই।ফিরোজ কবিরের এক সময়ের একান্তজন পরিণত হলেন মুরাদের ঘনিষ্টজন।

দূরত্ব থেকে বিরোধ। ক্ষোভে দুঃখে শেষ পর্যন্ত মুখরা হলেন ফিরোজ কবির। বক্তৃতায় নূন্যতম রাখঢাক না রেখে বললেন,কে ছিলো তার বাড়ির রাখাল। আবার এক সময়ের মুরাদ ঘনিষ্ঠ সাভার পৌরসভার বর্তমান মেয়র আব্দুল গনি ছিলেন সাভার উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান।

সেই ঘনিষ্ঠতা কেবলই ইতিহাস। এখন মুরাদের জাতশক্র। বাদ পড়লো না আলী হায়দার-ও।
এদিকে হাসিনা দৌলার সাথে আলী হায়দারের অমিল। ফিরোজ কবিরে সাথে বৈরিতা আর আব্দুল গনির সাথে শক্রতা। সাভারে এই বিভাজন আর অনৈক্যই হলো আওয়ামী লীগের বৈশিষ্ট।

ডা.এনাম এমপি হবার পর নানামুখি উদ্যোগ নিলেন। সকলকে দলের স্বার্থে এক কাতারে আনার চেষ্টা করলেন। কিন্তু তেলে জলে যেমন মেশে না,সাভারের নেতাদের অনেকের মধ্যে তাই।

মেয়র নির্বাচনে ঢাকঢোল পিটিয়ে মহাসমারোহে একদিন আলী হায়দার এবং ফিরোজ কবিরকে নামানো হলো আব্দুল গনির জনসংযোগে।

সম্পর্ক ওই পর্যন্তই। তেল আর জলের মতো।

কিন্তু কথা বলে শক্রর শক্র বন্ধু। হলোও তাই।সেটাই দেখলো সাভার।

মুরাদের প্রতিপক্ষদের নি:শর্ত সমর্থন পেলেন ডা.এনাম।

সামনে নির্বাচন। তার আগেই আলী হায়দার নিজেকে নিয়ে রেখেছেন নিরপেক্ষতার কাতারে।
তার কথা,দল যাকেই নমিনেশন দেবে,তার পক্ষে তিনি থাকবেন।

তবে অন্তর আর চিন্তা চেতনায় বরাবরই মুরাদ জং।

তার নীতিবোধটাও কিন্তু বেশ।লুকোচুরি নয়।যা বলেন সরাসরি। অন্যরা যখন দিনে এনাম রাতে মুরাদকে নিয়ে ব্যস্ত থাকেন তখন ব্যতিক্রম আলী হায়দার।

মনেও মুরাদ।প্রাণেও মুরাদ। এক প্রাণ বলেই সম্ভাব্য বিমান দুর্ঘটনা থেকেও একসাথে বেঁচে ফিরেছেন।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে,আলী হায়দারের মতোই বা নীতিবোধ কত জনের আছে। নেই। কারণ সবাই অপেক্ষায় সুযোগের। যেদিকে জোয়ার সেদিকে তরী ভাসাবেন।

যেদিকে নেত্রীর আর্শিবাদের বৃষ্টি হবে,সেদিকেই ছাতা ধরবেন। অনেকে আবার ভোল পাল্টাতে ব্যস্ত। কেউ ফিফটি ফিফটি। অর্ধেক তুহিন বা অর্ধেক এনাম কিংবা অর্ধেক মুরাদ।

তবে নমিনেশন চূড়ান্ত হলে সবাই খোলস ছেড়ে বের হবেন।

নির্বাচনেও বেশি দিন আর নেই। আগামী ২৫ অক্টোবর সাভারে আসছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক,সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।সাথে থাকবেন দলের যুগ্ম সম্পাদক,দেশের প্রথম নারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা.দীপু মনি,সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিষ্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।

সাভার আশুলিয়ায় জনসংযোগ করে নৌকার পক্ষে ভোট চাইবেন তারা।

প্রশ্ন হচ্ছে,সাভার আশুলিয়ায় (ঢাকা-১৯) কার পক্ষে ভোট চাইবেন তারা। মুরাদ জং ক্ষমতায় থাকতেও গতবার মনোনয়ন পাননি। রানা প্লাজা তাকে চাপা দিয়ে গেছে।এক রানাই তাকে সর্বনাশের ষোলকলা পূর্ণ করে দিয়েছে।
এমপি থাকা সত্বেও সাভারের রানা প্লাজার ধবংস্তূপ পরিদর্শন আর আশুলিয়ায় তৈরি পোশাক শ্রমিকদের হোষ্টেল উদ্ধোধন করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরে উপস্থিত থাকার অনুমতি পাননি মুরাদ। সবই অদিষ্ট। নির্মম ইতিহাস।

নির্বাচন ঘনিয়ে আসার প্রাক্কালে সাভার ও আশুলিয়ায় দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে জন সংযোগে কি দেখা যাবে মুরাদ জংকে?

যদি থাকেন তো ভিন্ন কথা। না থাকলে অন্য হিসেব।মুরাদের নিজের জন্যেও দিনটি চ্যালেঞ্জের।

ওই দিন যদি তিনি নাই বা আসেন তবে আর আসবেন কবে ?

আবার যে আয়োজনের প্রস্তুতির মূল কেন্দ্রে রয়েছেন ডা.এনামুর রহমান,সেখানে রাজকীয়ভাবে তার প্রত্যাবর্তনের সুযোগ-ও সীমিত।

ওদিকে মুরাদকে ঘিরেও সতর্কতার কমতি নেই প্রতিপক্ষ শিবিরে।

এটা সত্য, দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের মেজাজ মর্জিতে ভীষণ কড়া। তার উপস্থিতিতে ব্যক্তিগত শ্লোগান আর শোডাউন করলে রেহাই নেই।

সেখানে কি মুরাদ পারবেন শোডাউন করে নিজের অস্তিত্ব জানান দিতে? দলের মনোনয়ন আপাতত দূরের কথা,রাজনীতিতে ফিরে আসার গ্রীণ সিগন্যাল কি তিনি পেয়েছেন ? দলের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে তার অংশগ্রহণের নিশ্চয়তা কতটুকু?

পোষ্টার কিংবা ব্যানারে নয়,প্রকৃতপক্ষে সেই দিনটিতে সশরীরে কি তিনি উদয় হবেন? দিনটি কি হবে তার পুনরায় ফিরে আসার “অভিষেকের” দিন?

খোদ তার সমর্থকদের এমন হাজারো প্রশ্ন। তবে উত্তর পেতে অপেক্ষা করতে হবে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত।
)
সাভারে মুরাদ জং এর অভিষেক হবে কবে?

জাহিন সিংহ: ঠিক পাঁচ বছর আগের ঘটনা। তখনো মুরাদ জং’র শাসনামল ! তবে বাতাসে গুঞ্জন,ডা.এনাম পেতে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন।
সাভার থানা রোডে মুক্তির মোড়ে মাষ্টার কমিউনিটি সেন্টারে বসেছেন আওয়ামী লীগের নেতারা। ডা.এনামকে ইঙ্গিত করে সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলী হায়দার বললেন,মরলে জানাযায় যে ১০ জন লোক-ও পাবে না,সে নাকি আবার এমপি হবার স্বপ্ন দেখে!

তাচ্ছিল্যপূর্ণ আরো কত কথা!

তবে নিয়তি বড়ই নিষ্ঠুর। সেই মুরাদ জং আর নেই।এমপি হলেন ডা.এনামুর রহমান।

নিয়ম হলো বর্তমান বা সাবেক কোন সাংসদ মারা গেলে জাতীয় সংসদ ভবনে মরহুমের জানাযা অনুষ্ঠিত হয় । মন্ত্রী সাংসদরা মরহুমকে শেষ শ্রদ্ধা জানায়। ক্ষমতাসীন সাংসদ হলে তো কথাই নেই!

রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকেও রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী মরহুমের কফিনে পুষ্পমাল্য দিয়ে সন্মান জানান।

ডা.এনামের রয়েছে হাজারো চিকিৎসক আর কর্মি নিয়ে গড়া এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।

শিক্ষার্থীদের কথা আর নাই বা বললাম!

সেখানে একজন সামান্য পিয়ন মারা গেলেও তার জানাযায় হাজারো সহকর্মি অংশ নেয়।

কথাগুলো বললাম এই কারণে, আসলে সকল প্রশংসা যেমন মহান আল্লাহ’র তেমনি সকল ক্ষমতাও একমাত্র তাঁর। আল্লাহ ছাড়া কেউ ভবিষ্যত বলতে পারে না। সৃষ্টিকর্তা তার সৃষ্টির দাম্ভিকতা আর অহংকার একদমই পছন্দ করেন না। যারা অহংকার করেন তাদের পতন-ও অনিবার্য। সেটাও দেখেছে সাভারবাসী।

মুরাদ জং জমানায় আলী হায়দার ছিলেন এমপির পর একচ্ছত্র ক্ষমতার অধিপতি। মুরাদ নেই,সেই ক্ষমতাটাও নেই। মূল্যহীন।সেই আলী হায়দারকে দলের নেতাদের হাতেই হতে হলো লাঞ্ছিত। নিজ দলের লোকেরাই হামলা করলো বাড়িতে। নিজের জামাতাকেও দৌড়ের ওপর রেখেছে পুলিশ।

আসলে এমনই হয়। ঋতুর মতো ক্ষমতার পরিবর্তনে রং আর রূপ-ও বদলায়। বদলে যায় মানুষের তোষামদির ধরন। আবার ক্ষমতার জন্যে আজকের শক্র কালকের বন্ধু।আর বন্ধু হয়ে যায় ঘোরতর শক্র। যেমন ফিরোজ কবীর।মুরাদ জমানায় ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ফিরোজ কবির ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান।বনিবনা ছিলো না মুরাদের সাথে।সরকারি কর্মকর্তাদের দিয়ে থানায় অভিযোগ করানো হলো। সে সময় পেরেশানী হয়ে ফিরোজ কবিরকে-ও কিন্তু কম নাকাল হতে হয়নি।

তারপরের ইতিহাস সকলের জানা। আওয়ামী লীগ আবারো এলো ক্ষমতায়। অথচ এলেন না কেবলই ফিরোজ কবির।নির্বাচিত হতে পারলেন না উপজেলা চেয়ারম্যান। কারন একটাই, আওয়ামী লীগের অনেকেই চাননি ফিরোজ কবির উপজেলা চেয়ারম্যান হন।

অন্যদিকে সব কটি ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান আর পৌরসভায় মেয়র পদে বসলো আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। উপজেলা থেকেই গুটিয়ে জুগি জঙ্গলে ফিরলেন ফিরোজ কবির।

তার পরাজয়েও কারণ ছিলো না।ফিরোজ কবিরের সাথে আলী হায়দারের এক সময়ে সখ্যতা ছিলো সোনায় সোহাগা। কিন্তু কথায় বলে,অন্ধকার নামলে নিজের ছায়াও অদৃশ্য হয়ে যায়। হলোও তাই।ফিরোজ কবিরের এক সময়ের একান্তজন পরিণত হলেন মুরাদের ঘনিষ্টজন।

দূরত্ব থেকে বিরোধ। ক্ষোভে দুঃখে শেষ পর্যন্ত মুখরা হলেন ফিরোজ কবির। বক্তৃতায় নূন্যতম রাখঢাক না রেখে বললেন,কে ছিলো তার বাড়ির রাখাল। আবার এক সময়ের মুরাদ ঘনিষ্ঠ সাভার পৌরসভার বর্তমান মেয়র আব্দুল গনি ছিলেন সাভার উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান।

সেই ঘনিষ্ঠতা কেবলই ইতিহাস। এখন মুরাদের জাতশক্র। বাদ পড়লো না আলী হায়দার-ও।
এদিকে হাসিনা দৌলার সাথে আলী হায়দারের অমিল। ফিরোজ কবিরে সাথে বৈরিতা আর আব্দুল গনির সাথে শক্রতা। সাভারে এই বিভাজন আর অনৈক্যই হলো আওয়ামী লীগের বৈশিষ্ট।

ডা.এনাম এমপি হবার পর নানামুখি উদ্যোগ নিলেন। সকলকে দলের স্বার্থে এক কাতারে আনার চেষ্টা করলেন। কিন্তু তেলে জলে যেমন মেশে না,সাভারের নেতাদের অনেকের মধ্যে তাই।

মেয়র নির্বাচনে ঢাকঢোল পিটিয়ে মহাসমারোহে একদিন আলী হায়দার এবং ফিরোজ কবিরকে নামানো হলো আব্দুল গনির জনসংযোগে।

সম্পর্ক ওই পর্যন্তই। তেল আর জলের মতো।

কিন্তু কথা বলে শক্রর শক্র বন্ধু। হলোও তাই।সেটাই দেখলো সাভার।

মুরাদের প্রতিপক্ষদের নি:শর্ত সমর্থন পেলেন ডা.এনাম।

সামনে নির্বাচন। তার আগেই আলী হায়দার নিজেকে নিয়ে রেখেছেন নিরপেক্ষতার কাতারে।
তার কথা,দল যাকেই নমিনেশন দেবে,তার পক্ষে তিনি থাকবেন।

তবে অন্তর আর চিন্তা চেতনায় বরাবরই মুরাদ জং।

তার নীতিবোধটাও কিন্তু বেশ।লুকোচুরি নয়।যা বলেন সরাসরি। অন্যরা যখন দিনে এনাম রাতে মুরাদকে নিয়ে ব্যস্ত থাকেন তখন ব্যতিক্রম আলী হায়দার।

মনেও মুরাদ।প্রাণেও মুরাদ। এক প্রাণ বলেই সম্ভাব্য বিমান দুর্ঘটনা থেকেও একসাথে বেঁচে ফিরেছেন।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে,আলী হায়দারের মতোই বা নীতিবোধ কত জনের আছে। নেই। কারণ সবাই অপেক্ষায় সুযোগের। যেদিকে জোয়ার সেদিকে তরী ভাসাবেন।

যেদিকে নেত্রীর আর্শিবাদের বৃষ্টি হবে,সেদিকেই ছাতা ধরবেন। অনেকে আবার ভোল পাল্টাতে ব্যস্ত। কেউ ফিফটি ফিফটি। অর্ধেক তুহিন বা অর্ধেক এনাম কিংবা অর্ধেক মুরাদ।

তবে নমিনেশন চূড়ান্ত হলে সবাই খোলস ছেড়ে বের হবেন।

নির্বাচনেও বেশি দিন আর নেই। আগামী ২৫ অক্টোবর সাভারে আসছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক,সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।সাথে থাকবেন দলের যুগ্ম সম্পাদক,দেশের প্রথম নারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা.দীপু মনি,সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিষ্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।

সাভার আশুলিয়ায় জনসংযোগ করে নৌকার পক্ষে ভোট চাইবেন তারা।

প্রশ্ন হচ্ছে,সাভার আশুলিয়ায় (ঢাকা-১৯) কার পক্ষে ভোট চাইবেন তারা। মুরাদ জং ক্ষমতায় থাকতেও গতবার মনোনয়ন পাননি। রানা প্লাজা তাকে চাপা দিয়ে গেছে।এক রানাই তাকে সর্বনাশের ষোলকলা পূর্ণ করে দিয়েছে।
এমপি থাকা সত্বেও সাভারের রানা প্লাজার ধবংস্তূপ পরিদর্শন আর আশুলিয়ায় তৈরি পোশাক শ্রমিকদের হোষ্টেল উদ্ধোধন করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরে উপস্থিত থাকার অনুমতি পাননি মুরাদ। সবই অদিষ্ট। নির্মম ইতিহাস।

নির্বাচন ঘনিয়ে আসার প্রাক্কালে সাভার ও আশুলিয়ায় দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে জন সংযোগে কি দেখা যাবে মুরাদ জংকে?

যদি থাকেন তো ভিন্ন কথা। না থাকলে অন্য হিসেব।মুরাদের নিজের জন্যেও দিনটি চ্যালেঞ্জের।

ওই দিন যদি তিনি নাই বা আসেন তবে আর আসবেন কবে ?

আবার যে আয়োজনের প্রস্তুতির মূল কেন্দ্রে রয়েছেন ডা.এনামুর রহমান,সেখানে রাজকীয়ভাবে তার প্রত্যাবর্তনের সুযোগ-ও সীমিত।

ওদিকে মুরাদকে ঘিরেও সতর্কতার কমতি নেই প্রতিপক্ষ শিবিরে।

এটা সত্য, দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের মেজাজ মর্জিতে ভীষণ কড়া। তার উপস্থিতিতে ব্যক্তিগত শ্লোগান আর শোডাউন করলে রেহাই নেই।

সেখানে কি মুরাদ পারবেন শোডাউন করে নিজের অস্তিত্ব জানান দিতে? দলের মনোনয়ন আপাতত দূরের কথা,রাজনীতিতে ফিরে আসার গ্রীণ সিগন্যাল কি তিনি পেয়েছেন ? দলের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে তার অংশগ্রহণের নিশ্চয়তা কতটুকু?

পোষ্টার কিংবা ব্যানারে নয়,প্রকৃতপক্ষে সেই দিনটিতে সশরীরে কি তিনি উদয় হবেন? দিনটি কি হবে তার পুনরায় ফিরে আসার “অভিষেকের” দিন?

খোদ তার সমর্থকদের এমন হাজারো প্রশ্ন। তবে উত্তর পেতে অপেক্ষা করতে হবে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত।