দীর্ঘ দেড় মাস পর বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির উৎপাদিত

প্লাবন শুভ, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি : কয়লার অভাবে দীর্ঘ দেড় মাস বন্ধের পর গতকাল বৃহস্পতিবার (১৩সেপ্টেম্বর) রাত ১টায় বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির উৎপাদিত কয়লা দিয়েই পুরোদমে বিদ্যুৎ উৎপাদনে যাচ্ছে দিনাজপুরের ফুলবাড়ীর পার্শ্ববর্তী বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র।

প্রথম পর্যায়ে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ২নং ইউনিট দিয়েই বিদ্যুৎ উৎপাদনের সব রকম প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে সংশ্লিষ্টরা। তবে উৎপাদিত বিদ্যুৎ রাত ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে জাতীয় গ্রীডে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।

বিদ্যুৎ কেন্দ্রটিতে পুরোদমে বিদ্যুৎ উৎপাদনে দিনাজপুর ও রংপুর অঞ্চলের বিদ্যুতের যে সংকট সৃষ্টি হয়েছে তা দুর হবে। বর্তমানে এই ইউনিট দিয়ে কত মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে এমন বিষয়ে সঠিকভাবে বলতে না পারলেও বিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ বলছেন পর্যায়ক্রমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাত্রা বৃদ্ধি পাবে।

বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক (রক্ষণাবেক্ষণ) মো. মাহাবুর রহমান বলেন, গতকাল বৃহস্পতিবার (১৩সেপ্টেম্বর) রাত ১০টা নাগাদ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ২নং ইউনিটটি চালুর সকল প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কোন রকম কারিগরি ত্রুটি না হলে রাত ১১টা থেকে ১২টার মধ্যেই ২নং ইউনিটের উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রীডে যোগ দেওয়া হবে। তবে গত ঈদ উল আযহা উপলক্ষে বিদ্যুতের চাপ বেড়ে যাওয়ায় গ্রাহকদের দুর্ভোগ লাঘবের জন্য কয়লাখনি থেকে সামান্য কিছু সরবরাহ করাসহ তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পূর্বের মজুদ পাঁচ থেকে ছয় হাজার মেট্রিক টন কয়লা দিয়েই এক সপ্তাহের জন্য ২নং ইউনিটটি সাময়িকভাবে চালুর মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুল হাকিম সরকার বলেন, বড়পুকুরিয়া কয়লাখনিতে উৎপাদিত কয়লার দিয়েই প্রথম পর্যায়ে ২নং ইউনিটটি চালু করা হচ্ছে। সবগুলো এক সাথে তিনটি ইউনিট চালু করতে যে পরিমাণ কয়লার প্রয়োজন সে পরিমাণ কয়লা না পাওয়ার কারণেই একটি হলেও ইউনিট চালুর মাধ্যমে বিদ্যুৎ কেন্দ্রকে সচল রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. ফজলুর রহমান বলেন, কয়লাখনির ভূগর্ভ থেকে বর্তমানে প্রতিদিন দেড় থেকে দুই হাজার মেট্রিক টন কয়লা উৎপাদন হচ্ছে। উৎপাদিত কয়লা খনির কোল ইয়ার্ডে না রেখে সরাসরি পার্শ্ববর্তী কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে সরবরাহ করা হচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র সংলগ্ন বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় কয়লা সরবরাহ করতে ব্যর্থ হওয়ায় তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ২নং ইউনিটটি চলতি বছরের গত ২৯জুন বন্ধ করতে বাধ্য হন কর্তৃপক্ষ। ওই সময় ২নং ইউনিট থেকে ৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছিল। একই কারণে গত ২২জুলাই রাত ১০টা ২০মিনিটে তৃতীয় ইউনিটও বন্ধ করে দেওয়া হয়। বন্ধের দিন পর্যন্ত তৃতীয় ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছিল ১৪৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। তবে ওভারহলিং কাজের জন্য ২০১৭সালের ৭অক্টোবর থেকে বন্ধ ছিল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১নং ইউনিটটি।