বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির কয়লা উধাও

প্লাবন শুভ, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের ফুলবাড়ীর পার্শ্ববর্তী বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির কয়লা উধাও হওয়ার ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) দিনাজপুরের উপ-পরিচালক বেনজির আহম্মেদের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি দল অনুসন্ধান শুরু করেছেন।

গতকাল সোমবার বেলা আড়াইটা থেকে বিকেল প্রায় পাঁচ পর্যন্ত কয়লার মজুদ ও বিক্রি সংক্রান্ত নথিপত্রসহ কোল ইয়ার্ড সরেজমিন পরিদর্শন পূর্বক অনুসন্ধান চালান দুদকের দল।

অনুসন্ধান শেষে খনির প্রধান ফটকের সামনে দুদক দিনাজপুরের উপ-পরিচালক বেনজির আহম্মেদ সাংবাদিকদের বলেন, দুদকের উচ্চ পর্যায়ের নিদের্শে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি থেকে এক লাখ ৪৬হাজার মেট্রিক টন কয়লা উধাও হওয়ার বিষয়ে প্রাথমিকভাবে অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে।

প্রাথমিকভাবে অনুসন্ধানে নথিপত্রে কয়লার মজুদ এক লাখ ৪৬হাজার মেটিক টন মজুদ দেখানো হলেও সরেজমিনে কোন ইয়ার্ডে গিয়ে প্রায় দুই হাজার মেট্রিক টন কয়লার অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। এতে তো দুর্নীতির অলামত পাওয়া যাচ্ছে। তবে বিষয়টির ওপর অনুসন্ধানসহ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোন কিছুই বলা যাচ্ছে না।

প্রাথমিক অনুসন্ধান ও তদন্তের বিষয়টি ঢাকায় দুদর্কের প্রধান কার্যালয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যেই দুদক ঢাকার প্রধান কার্যালয় থেকে তিন সদস্যের একটি তদন্ত একটি উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটির সদস্যরা সরেজমিনে এসে তদন্ত শুরু করবেন। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

উল্লেখ্য, কয়লাখনি থেকে বিপুল পরিমাণ কয়লা উধাও হওয়ার ঘটনায় গত ১৯জুলাই খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী হাবীব উদ্দিন আহমেদ ও খনির মহাব্যবস্থাপক-জিএম (প্রশাসন ও কোম্পানী সচিব) আবুল কাশেম প্রাধানীয়াকে প্রত্যাহার এবং মহাব্যবস্থাপক-জিএম (অপারেশন) মো. নূরুজ্জামান চৌধুরী ও উপ-মহাব্যবস্থাপক-ডিজিএম (স্টোর) মো. খালেদুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে খনির পরিচালনাকারি প্রতিষ্ঠান পেট্রেবাংলা।

এ বিষয়ে পেট্রোবাংলার পরিচালক (মাইন ও অপারেশন) মো. কামরুজ্জামানকে আহবায়ক করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। একই সাথে পেট্রো বাংলার মহাব্যবস্থাপক-জিএম (প্লানিং) মো. আইয়ুব আলী খান চৌধুরীকে খনির ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।