পার্বতীপুর সংখ্যালঘু হিন্দুু পরিবারের উপর হামলা

আব্দুল্লাহ আল মামুন, পার্বতীপুর(দিনাজপুর) থেকে : দিনাজপুরের পার্বতীপুরে বাড়িতে ঢুকে সংখ্যলঘু হিন্দু পরিবারের উপর হামলা ও বাড়ি জবর দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার মনমথপুর ইউনিয়নের রাজাবাসর এলাকায় জমি ক্রয় কে কেন্দ্র করে গত কাল এ ঘটনা ঘটেছে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, উপজেলার রাজাবাসর এলাকার মৃত আফসার আলীর পুত্র আতাউর রহমান মুন্সির নিকট হতে গত ১১/০৭/১৮ তারিখে ১২লাখ ২৫হাজার টাকয় রাজাবাসর মৌজার ৫৪৯ খতিয়ানের ৮৩০দাগে ৯ শতক জমিসহ নির্মিত বাড়ি কবলা দলিল মুলে ক্রয় করেন মৃত মিলন কুমার বিশ্বাসের স্ত্রী অর্চনা রানী(৫৩)। পরদিন আসবাব পত্র নিয়ে অর্চনা রানী বাড়িতে এলে আতাউর রহমান মুন্সির ভাই মোশারফ হোসেন মুন্সির নের্তৃত্বে মহিলা-পুরুষসহ ৩০/৩৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল তার উপর হামলা চালায়। পরে পার্বতীপুর মডেল থানায় ১৩জনের নাম উল্লেখ্য করে অভিযোগ করেন অর্চনা রানী ।

অর্চনা রানী অভিযোগ করে বলেন, কিছুদিন আগে জানতে পারি আতাউর রহমান মুন্সির বাড়িটি বিক্রি হবে। পরে আতাউর রহমান মুন্সির ছোট ভাই মোশারফ হোসেনকে বাড়ি বিক্রয়ের বিষয়ে বললে তিনি বলেন এখানে কবর স্থানের জায়গা আছে। মুন্সি তো হজ্জ্ব যাওয়ার কথা বলে সব বিক্রি করছে। কবর স্থানের যায়গা থাকলে সেখানে বাড়ি করার সময় বাধা দেননি কেনো? প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মা বলেছিলো মুন্সির তো কোন বাচ্চা নেই। সে মারা গেলে তোরাই সব পাবি। এ জন্য বাধা দেই নি।

পরে তার সাথে কথা বলার প্রায় সপ্তাহ খানেক পর আমি ৩লাখ টাকা বায়নানামা দলিল করি। পরে বাকি টাকা পরিশোধ করে বাড়িতে গেলে মোশারফ হোসেন(৪০) তার দলবল নিয়ে আমার উপর হামলা করে। চিৎকার শুনে এলাকাবাসী এলে অবস্থা বেগতিক দেখে বাড়ি ছেড়ে না গেলে আমাকে প্রানে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে চলে যায় তারা। আমি হিন্দু মানুষ হওয়ায় আমার পরিবারের উপর তারা যে কোন সময় পুনরায় হামলা চালাতে পারে। প্রতি মুহূর্তে এ আশংকায় নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছি। তাই এর সুষ্ঠ বিচারের দাবীতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করছি বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে জমি বিক্রেতা আতাউর রহমান মুন্সি বলেন, এর আগেও আমার ভাইয়েরা আমার কাছে জমি কিনেছে কিন্ত আজ দিবো কাল দিবো বলে অদ্যাবধি তারা কোন টাকা আমায় দেয় নি। আমি তাদের বলেছিলাম বাড়িটা বিক্রি করবো তোমরা চাইলে ন্যায্য দামে কিনতে পারো। কিন্তু তারা নেয় নি। আমি হজ্জ্বে যাবো তাই পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া আমার জমিসহ নির্মিত বাড়িটি অর্চনা রানীর কাছে ১২লাখ ২৫হাজার টাকায় বিক্রি করেছি। তারা কবর স্থানের জায়গা বাবদ যে ২শতক দাবী করে তা সঠিক নয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক এলাকাবাসী জানান, এর আগেও এ ধরনের ঘটনার বিষয়ে তাদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে মোশারফ হোসেন বলেন, মুন্সি যে জায়গা বিক্রি করেছে আমরাও পৈত্রিক সুত্রে ওই জমির মালিক। তাই সে একই জমি বিক্রি করতে পারে না।

এ বিষয়ে পার্বতীপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ হাবিবুল হক প্রধান অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।