বখাটেদের অশ্লীলতার শিকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

প্লাবন শুভ, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তাফিজুর রহমান ইন্সটিটিউট নামের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির রাস্তা সংলগ্ন পুরো বাউন্ডারি দেওয়াল জুড়ে অশ্লীল লেখায় ভরে গেছে। এতে প্রতিনিয়ত বিব্রত অবস্থায় পড়ছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ পথচারিরা।

জানা গেছে, ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির বাউন্ডারি দেওয়ালটি সম্প্রতি রং করা হয়। পুনরায় রং করার পর থেকেই স্থানীয় এক শ্রেণির বিকৃত মানসিকতার বখাটে যুবকরা বিভিন্ন অশ্লীল বাক্য লিখে দৃষ্টি নন্দিত দেওয়ালটিকে বিকৃত করে ফেলেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে সার্বক্ষণিকের জন্য পাহারাদারসহ দেখভালের জন্য বেতনভূক্ত কর্মচারি থাকলেও কেউই বলতে পারছেন না কে বা কারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির দেওয়ালে অশ্লীল বাক্য লিখেছে এবং লিখছে। ইতোপূর্বে দু’চার স্থানে অশ্লীল লেখা থাকলেও সেগুলো প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ পানি ধুয়ে মুছে ফেলেন। এর পরপরই প্রতিযোগিতামূলকভাবে গোটা দেওয়াল জুড়ে শুরু হয়েছে অশ্লীল বাক্যের লেখালেখি। কিন্তু প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ এসব অশ্লীল লেখাগুলো মুছে ফেলার ব্যবস্থা না হওয়ায় সহজেই সকলের নজরে পড়ছে এগুলো। এতে বিব্রত হচ্ছেন শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ পথচারিরা। প্রতিষ্ঠানটি উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন হওয়ার পরও এসব অশ্লীল লেখালেখি বন্দে নজর নেই উপজেলা প্রশাসনের।

অভিভাবক তানজিনা আক্তার ও মামুনুর রশিদ বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দেওয়ালে এ ধরণের লেখা দেখে তারা যেমন বিব্রত হচ্ছেন, তেমনি শিশু-কিশোরদের মাঝে বিরুপ মনোভাবের সৃষ্টি হচ্ছে। এর সাথে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উচিৎ দ্রুত এসব অশ্লীল লেখা দেওয়াল থেকে মুছে ফেলা।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক মো. শফিকুল ইসলাম জুয়েল বলেন, বিদ্যালয়টি উচ্চ বিদ্যালয়ে উন্নীত হওয়ার পর থেকেই স্থানীয় বখাটে যুবকরা বিদ্যালয় চলাকালে বিদ্যালয়ের আশপাশে নিয়মিত ঘোরাফেরা দেখে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে নিষেধ করা হয়। এরপর থেকে ওইসব বখাটে যুবকরা বিদ্যালয়ের আশপাশে দেখা যায় না। তবে ধারনা করা হচ্ছে ওইসব বখাটে যুবকরাই ভোরে কোন এক সময়ে দেওয়ালে অশ্লীল কথাবার্তা লেখালেখি করছে। এদেরকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে এবং বিদ্যালয়টিকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনারও কাজ চলছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা কমিটির সভাপতি রাজেন্দ্র প্রসাদ গুপ্ত বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দেওয়ালে কোন বিবেকবান মানুষ এ ধরণের অশ্লীল কথাবার্তা লেখালেখি করতে পারে না। এরা বিকৃত মানসিকতার মানুষ। এদেরকে ধরার চেষ্টা চলছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুস সালাম চৌধুরী বলেন, বিদ্যালয়ের দেওয়ালে বখাটেরা অশ্লীল লেখালেখি করছে, এমন তথ্য তার জানা নেই। এ বিষয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও তাকে কিছু জানাননি। তবে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখে অপরাধি বখাটেদেরকে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।