ফুলবাড়ীতে বিষ ঢেলে মাছ নিধন : বিপাকে মৎস্যজীবীরা

প্লাবন শুভ, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের ফুলবাড়ীর ছোট যমুনা নদীর সরকারিভাবে ঘোষিত মাছের অভয়াশ্রমে বিষ ঢেলে বিভিন্ন দেশি প্রজাতির ছোটবড় প্রায় ২০মণ নিধন করেছে দুস্কৃতিকারিরা। ঘটনাটি ঘটেছে, গত শনিবার (৭এপ্রিল) রাতে উপজেলা কেন্দ্রীয় শশ্মান ঘাট থেকে খয়েরবাড়ি সেতু পর্যন্ত ৮কিলোমিটার এলাকার নদীতে।

সরকারি কার্ডধারী খয়েরবাড়ি এলাকার মৎসজীবী মকবুল হোসেন, ইয়াছিন আলী, রাজেন রায়, বিকাশ চন্দ্র রায় ও জাহাঙ্গীর আলম বলেন, তারা সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ছোট যমুনা নদীতে মাছ ধরে বিকেলে স্থানীয় বাজারগুলোতে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। গতকাল রবিবার সকালে নদীর খয়েরবাড়ি সেতু এলাকায় মাছ ধরতে গিয়ে দেখেন নদীর পানিতে দেশি প্রজাতির বাম, বোয়াল, টেংরা, পুটিসহ বিভিন্ন নামের ছোটবড় মাছ ভেসে উঠেছে দেখে সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য জাকির হোসেন, ইউপি সদস্য জাকির হোসেনসহ খয়েরবাড়ি ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি শিক্ষক মো. এনামুল হককে জানান।

ইউপি সদস্য জাকির হোসেন ও ইউপি সদস্য জাকির হোসেন বলেন, সরকার সকলের জন্য উন্মুক্তভাবে মাছ ধরার জন্য নদীর ৮কিলোমিটার এলাকা অভয়াশ্রম হিসেবে ঘোষনা দিয়ে প্রতি বছর দেশি প্রজাতির মাছ অবমুক্ত করা হচ্ছে। নদীর পানিতে বিষ ঢেলে দেওয়ায় নদীর মাছগুলো মরে ভেসে উঠায় এলাকার দিনমজুর পরিবারগুলো ওইসব মাছ সকাল থেকে ধরে নিয়ে গেছে।

ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি শিক্ষক মো. এনামুল হক বলেন, মাছ মরে নদীতে ভেসে উঠার সংবাদ পেয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাসহ ঘটনাস্থল গিয়ে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হয়েছেন। এ বিষয়ে তিনি নিজেই বাদি হয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দিয়েছেন।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোছা. মাজনুন্নাহার মায়া বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শনসহ এলাকার মৎস্যজীবীদের নিয়ে সভা করা হয়েছে। নদীর যেসব এলাকায় বাঁশ ও বেড়াসহ গাছের ডাল ফেলে মাছ ধরার ফাঁদ পেতে রাখা হয়েছে সেগুলো সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে। ফাঁদ সরিয়ে নিতে গরিমসি করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষ প্রয়োগে মাছ নিধনের পরিসংখ্যন সঠিকভাবে বলা না গেলেও ২০মণের অধিক মাছ মারা গেছে। তবে আগামীতে নদীর অভয়াশ্রমের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুস সালাম চৌধুরী বলেন, নদীর অভয়াশ্রমে বিষ ঢেলে মাছ নিধনের সংবাদ পাওয়ার পরপরই উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত করে দোষিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।