৫ জানুয়ারি ঘিরে সংঘাতে যাবে না বিএনপি

৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চতুর্থ বর্ষপূর্তি ঘিরে কোন সংঘাতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। শান্তিপূর্ণভাবে এই দিন ঢাকায় জনসভা এবং সারাদেশে কালো পতাকা মিছিল করতে চান তারা।

২০১৪ সালে বিএনপির বর্জনের মধ্য অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনের পরবর্তী বর্ষপূর্তিতে টানা ৯২ দিনের হরতাল-অবরোধের আন্দোলন করেছিল। সেই আন্দোলনে সফলতা না আসায় বিগত দুই বছর আর বড় ধরনের কোন সংঘাতময় কর্মসূচি দেয়নি বিএনপি। এবারো তারা কঠোর কর্মসূচির পথ পরিত্যাগ করেছেন।

বিএনপি এ দিনটিকে পালন করবে ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ হিসেবে। দলের একজন প্রভাবশালী সিনিয়র নেতা ইত্তেফাককে বলেন, এটা নির্বাচনের বছর। আমরা খুব হিসেব করে অগ্রসর হবো। আমাদের অনেক পরিকল্পনা আছে। সংঘাত বাঁধে এমন কঠোর কর্মসূচিতে এখনি যাবো না। একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের জন্য সরকারকে সমঝোতায় আনার চেষ্টা করা হবে। সেটা না হলে চূড়ান্ত আন্দোলনের মাধ্যমে বাধ্য করা হবে। তিনি বলেন, বিএনপি এখন সারাদেশে সংগঠিত। আন্দোলনের প্রস্তুতিও আছে। প্রতিটি কর্মসূচিতে মানুষ বাড়ছে।

এদিকে বিএনপির ’গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ উপলক্ষে ৫ জানুয়ারি রাজধানীতে কোনও খালেদা জিয়ার সমাবেশ ছাড়া কোন কর্মসূচি রাখা হয়নি। তবে সব জেলা ও মহানগরগুলোতে কালো পতাকা হাতে মিছিল ও কালো ব্যাজ ধারণ কর্মসূচি পালন করবে। ঢাকার কর্মসূচিতে বড় ধরনের শোডাউন করার পরিকল্পনা করছে বিএনপি। অবশ্য এই সমাবেশ করার অনুমতি পাবে কি না তা নিয়ে সংশয় আছে দলে।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার অনুমতি চেয়েছিল। কিন্তু পুলিশ বিএনপিকে অনুমতি দেয়নি। ৫ জানুয়ারি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপির বদলে সমাবেশের অনুমতি দিয়ে দেয় বাংলাদেশ ইউনাইটেড ইসলামিক পার্টি নামে অপরিচিত একটি দলকে। ফলে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের রাস্তায় সমাবেশ করতে সিটি কর্পোরেশন ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হয়েছে দলের পক্ষ থেকে।

গত বছরও বিএনপি ’গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের অনুমতি চেয়ে পায়নি। পরে নয়াপল্টনে দলের কার্যালয়ের সামনে চেয়েও অনুমতি পায়নি। গত বছরের ৭ জানুয়ারি সমাবেশ করতে না দিয়ে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয় এবং জনসভাস্থল সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ঘিরে রাখে পুলিশ। তবে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের আশা এবছর তারা সমাবেশ করার অনুমতি পাবেন। তিনি বলেন, আমাদের সমাবেশ হবে শান্তিপূর্ণ। বিএনপি সংঘাত পছন্দ করে না।

দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ২৯১৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে আওয়ামী লীগ। সেজন্য আমরা দশম সংসদ নির্বাচনের দিনটিকে গণতন্ত্র হত্যা দিবস হিসেবে পালন করে আসছি। আর একতরফা নির্বাচনের সেই দিনটি জাতিকে স্মরণ করিয়ে দিতেই বিএনপি কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এ কর্মসূচি পালিত হবে শান্তিপূর্ণভাবে।

তবে সরকারি দল যদি এতে বাধসাধে, পরিস্থিতির দায় তাদেরই নিতে হবে। এদিকে সমাবেশ ও কালো পতাকা মিছিলের কর্মসূচির বাইরে আগামী ৫ জানুয়ারিকে নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে সারাদেশে পোস্টার-লিফলেট প্রকাশ করা হবে। দ্রব্যমূল্যর ঊর্ধ্বগতি ও লুটপাটের প্রতিবাদ করে এই পোস্টার হতে পারে।