উপাধ্যক্ষের অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ-সমাবেশ-মানবন্ধন

প্লাবন শুভ, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের ফুলবাড়ী সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ বতর্মানে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. রফিকুল ইসলামের অপসারণে দাবিতে গতকাল বুধবার সকাল থেকে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ-সমাবেশসহ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে। শিক্ষার্থীদের কর্মসূচির সাথে সংহতি প্রকাশ করেছেন শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদকসহ অধিকাংশ শিক্ষক-শিক্ষিকা।

উপাধ্যক্ষ কলেজের ছাত্রদের হোস্টেলের একটি কক্ষসহ ছয়টি কক্ষ দখলে নিয়ে বিনাভাড়ায় বসবাস, বিভিন্ন অনিয়মসহ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদেরকে হয়রানীর অভিযোগে ওই বিক্ষোভ-সমাবেশ-মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা।

সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের ব্যানারে কলেজের সকল শ্রেণির বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-ছাত্রীরা কলেজ চত্বরে এক বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিল শেষে অধ্যক্ষ কক্ষে প্রবেশপথে বিক্ষোভ-সমাবেশ করে। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. তৌহিদুজ্জামান রাসেল, সহ-সভাপতি এসএম নাসিম, সাংগঠনিক সম্পাদক রাজু ইসলাম, মেহেদী হাসান, আরিফুল হাসান, মো, রিয়াদ, ছাত্রদলের সাগর হোসেন প্রমূখ। শেষে প্রশাসনিক ভবনের সামনে ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।

ছাত্রদের অভিযোগ উপাধ্যক্ষ মো. রফিকুল ইসলাম আড়াই বছর ধরে কলেজে কর্মরত রয়েছেন। যোগদান করেই তিনি ছাত্র হোস্টেলের একটি কক্ষ দখলে নিয়ে বিনাভাড়ায় অবস্থান করছেন। গত ১জানুয়ারি কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর অর্চনা অধিকারী অবসরে গেলে রফিকুল ইসলাম ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

এই সুবাধে তার অনুসারী পাঁচ শিক্ষককে দিয়ে ছাত্র হোস্টেলের অন্য আরও পাঁচটি কক্ষ দখলে নিয়ে বসবাসের সুযোগ করে দিয়েছেন। এতে করে ছাত্ররা সিট প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হয়ে বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ভাড়াই ব্যক্তি বিশেষের বাসাবাড়িতে ভাড়া থেকে লেখাপড়া করতে বাধ্য হচ্ছে। একইভাবে শিক্ষকসহ তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারিদের ওপর মানষিক নির্যাতনসহ নানাভাবে হয়রানী করে থাকেন। এ কারণে ইতোমধ্যেই অনেক শিক্ষক নিজেদের মানসম্মান রক্ষার্থে কলেজ ছেড়ে অন্যত্র বদলী নিয়ে চলে গেছেন। উপাধ্যক্ষ রফিকুল ইসলামকে কলেজ থেকে অপসারণ করা না হওয়া পর্যন্ত ছাত্র-ছাত্রীরা আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে যাবে।

কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারি অধ্যাপক মো. জিল্লুর রহমান বলেন, দুই বছর ধরে শিক্ষার গুণগত মান ভালো হয়নি। উপাধ্যক্ষ রফিকুল ইসলামের হাতে শিক্ষকরা হয়রানীর শিকার হচ্ছেন। শিক্ষার মান ও পরিবেশ নিশ্চিত করতে উপাধ্যক্ষ রফিকুল ইসলামকে অপসারণ করে যোগ্য ও নিষ্ঠাবান অধ্যক্ষ কলেজে নিয়োগ করা প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সাথে সংহতি প্রকাশ করে সরকারি কলেজ শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবীব বলেন, প্রত্যেক্ষ শিক্ষককেই সরকার পর্যাপ্ত বেতনভাতা দিচ্ছেন। শিক্ষকরা কেন ছাত্রদের হোস্টেল দখলে নিয়ে বসবাস করবেন। এটা শিক্ষকদের জন্য একটা মর্যাদা হানীকর বিষয়। দ্রুত হোস্টেল থেকে উপাধ্যক্ষসহ শিক্ষকদের সরিয়ে ছাত্রদের নামে সিট বরাদ্দের দাবি জানান।

ছাত্রদের আন্দোলন-সংগ্রামের বিষয়ে কথা বলতে গেলে উপাধ্যক্ষ ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. রফিকুল ইসলাম এ বিষয়ে কোন কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান।