শীতে ত্বকের সৌন্দর্য ধরে রাখতে খেতে হবে এই খাবারগুলো

শীত এলে যেন সেসব আরো জেঁকে বসে। কিন্তু কখনও কি ভেবে দেখেছি বয়সকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে দিব্বি ত্বকের সৌন্দর্য ধরে রাখা যায় কীভাবে? একদমই যায়। ইচ্ছা হলেই বয়সের উলটো দিকে চলতে পারেন।

প্রকৃতিই পারে আমাদের যৌবন ধরে রাখতে সাহায্য করতে। তবে এইসব প্রকৃতিক উপাদানে কী এমন আছে, যা আমাদের ত্বককে এতো ভাল রাখতে সাহায্য করে? আসলে প্রকৃতি বলতে বোঝাচ্ছে, নানা ফল এবং উদ্ভিজ্জ উপাদানকে। যেমন- ফল, চা বা কফি ইত্যাদি।

জেনে নেওয়া যাক কীভাবে প্রাকৃতিক উপাদানের মাধ্যমে ত্বক, চুল এবং নখের যত্ন নেওয়া যায়।

কফি : সকালে ঘুম থেকে উঠে হোক বা কাজের ফাঁকে, এক কাপ কফি আপনার চাই-ই চাই।
তা কফিতে ঠিক কী হয়? কফি আমাদের যে শুধু এনার্জি বাড়ায়, তা কিন্তু নয়। আমেরিকার ন্যাশানাল ক্যান্সার ইন্সটিটিউত-এর গবেষণা থেকে জানা যায় যে, কফি আমাদের ত্বককে মেলানোমার হাত থেকেও রক্ষা করে। মেলানোমা হল ত্বকের এক ধরণের ক্যান্সার। বৈজ্ঞানিকদের মতে, যারা প্রতিদিন চার কাপ মতো কফি পান করেন, তাদের ত্বকে মেলানোমা হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। প্রসঙ্গত, কফি নিয়মিত পান করলে মেলানোমা হওয়ার সম্ভাবনা ২০ শতাংশ হারে কমে যায়।

বেদানা: বেদানা অনেকেই খেতে ভালোবাসেন। আবার অনেকে আছেন, বেদানার ভেতরের বীজ না খেয়েই ফেলে দেন। এটি খুবই ভুল পদ্ধতি। আসলে বেদানা এবং বীজ উভয়ের মধ্যেই প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট এবং ভিটামিন সি থাকে। এই উপাদানগুলি ত্বকের থেকে বলিরেখা, দাগ ছোপ এবং শুষ্কতা দূর করে। গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, বেদানার মধ্যে যে ভিটামিন সি থাকে, তা মধ্য বয়স্কাদের ত্বকের শুষ্কতা এবং বলিরেখা দূর করে। এছাড়াও, এই ফলের মধ্যে অ্যান্থোসিয়ানিন থাকে, যা কোলাজেন তৈরিতে সাহায্য করে।

লবস্টার: লবস্টার বাড়িতে তৈরি করা একটু ঝামেলার। মূলত, কন্টিনেন্টাল খাবার হিসাবে বহু রেস্তোরাঁতে এটি পাওয়া যায়। কিন্তু এটি খাওয়া কতটা উপকারি? লবস্টারের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে জিঙ্ক থাকে, যা ব্রণ এবং প্রদাহজনিত সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। এছাড়াও, জিঙ্ক ত্বকের অন্দরে নতুন কোষ তৈরিতেও সাহায্য করে।

ডিম: হাত আর পায়ের নখের যত্ন নিচ্ছেন তো? মেনিকিওর, পেডিকিওর সবই নিশ্চয় করেন তাহলে। তবুও, নখ ভেঙে যায়। এর কারণ কি জানেন? আসলে নখের যত্ন শুধু শরীরের বাইরে থেকে নয়, শরীরের ভিতর থেকেও নিতে হয়। তাই নিয়ম করে ডিম খাওয়া খুবই জরুরি। এর কারণ ডিমের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন থাকে, যা নখ তৈরি হতে সাহায্য করে। প্রসঙ্গত, ডিমের মধ্যে শুধুমাত্র প্রোটিন নয়, একইসঙ্গে রয়েছে বায়োটিন এবং ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, যা অ্যামিনো অ্যাসিডের বিপাকে সাহায্য করে।

আখরোট: ত্বক এবং চুলের যত্নে আখরোট খাওয়া একান্তভাবে জরুরি। আখরোটের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড এবং ভিটামিন ই থাকে। ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড চুলের গোঁড়ায় তেলের ভারসাম্য বজায় রাখে। আর ভিটামিন ই চুলকে নষ্ট হয়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করে। এছাড়াও, প্রচুর পরিমাণে কপার থাকায় এটি চুলকে কালো রাখতে সাহায্য করে এবং অকালপক্কতার হাত থেকে রক্ষা করে। ফলে, চুল হয় উজ্জ্বল এবং প্রাণবন্ত।

অ্যাভোকাডো: এখন এই ফলটি সব জায়গাতেই পাওয়া যায়। এই ফলটি খাওয়া নানা কারণে উপকারি। যেমন, এই ফলের মধ্যে রয়েছে অলেইক অ্যাসিড, যা এক ধরণের ওমেগা নাইন ফ্যাটি অ্যাসিড। এটি ত্বকের আদ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে এবং ত্বককে নরম, উজ্জ্বল এবং সুস্থ রাখে।