স্বপ্নপুরীতে ঈদের সপ্তম দিনেও উপড়ে পড়া ভিড়

প্লাবন শুভ : সাম্প্রতিক বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পরেও কমেনি বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে ঈদের আনন্দ। ঈদের সপ্তম দিনেও কাটেনি ছুটির আমেজ। নানা বয়স ও শ্রেণি-পেশার মানুষ পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব নিয়ে এখনো ব্যস্ত দিনাজপুরের ফুলবাড়ী পাশ্ববর্তী বিনোদন কেন্দ্র স্বপ্নপুরীতে।

এ অঞ্চলের দাবদাহের ক্লান্তিময় এবং একঘেয়েমি জীবন থেকে বেরিয়ে আনন্দের সন্ধানে নিরিবিলি প্রশান্তি নিতে পরিবার-পরিজন নিয়ে ঈদ আনন্দ উপভোগ করছেন বিনোদনকেন্দ্র স্বপ্নপুরীতে। দর্শনার্থীদের আগমনে নবযৌবনা স্বপ্নপুরী সেজে উঠেছে আপন সাছে। নিজের মায়াবি রুপে দর্শনার্থীদের মন আকৃষ্ট করতে ব্যস্ত রুপরানী স্বপ্নপুরী। আর সেই সাজানো রুপ দেখতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তর থেকে ছুটে আসছে হাজার-হাজার মানুষের ঢল। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশাপাশি নাটক-চলচিত্র নির্মাতা, বিদেশী পর্যটকসহ দেশের সর্বস্তরের মানুষের পদচারণায় মূখরিত হয়ে উঠেছে দেশের অন্যতম প্রধান বিনোদন কেন্দ্র স্বপ্নপুরী।

 

 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অন্যানো সময়ের তুলনায় ঈদ-উল-আজাহাতে দর্শনার্থীদের পদচারণা অনেক বেশি ছিল। প্রবেশদ্বারে ছিল বিশাল যানবাহনের বহর। বেলা গড়াতেই জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছিল বিনোদন কেন্দ্রে স্বপ্নপুরী। উত্তরাঞ্চলবাসীর ঘুরতে যাওয়ার পছন্দের অন্যতম স্থান এই স্বপ্নপুরী।

 

সকাল থেকে দর্শনার্থীদের পদচারণায় মূখরিত হয়ে ওঠে এই বিনোদন কেন্দ্রটি। বিনোদনপ্রেমী মানুষ উপভোগ করছেন স্বপ্নপুরীর সৌন্দর্য। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন পশু-পাখির অবিকল ভাষ্কর্য, কৃত্রিম পাড়ার, কৃত্রিম ঝর্ণা এবং ইট-সিমেন্ট দিয়ে নির্মিত বাংলাদেশের এক সুবিশাল মানচিত্রের সমন্বয়ে তৈরি একটি কৃত্রিম চিরিয়াখানা, জিবন্ত পশু-পাখির চিরিয়াখানা, শিশুদের পার্ক, ইলেক্ট্রিক নাগড় দোলা, স্পিডবোট, ক্যাবল কার, মিউজিয়াম, দোলনা, বায়োস্কোপসহ একটি বিশাল আকৃতির সুইমিংপুলে সর্বস্তরের মানুষের ভিড় দেখা যায়।

 

 

পশু-পাখির অবিকল ভাষ্কর্য, শিশুপার্ক ও চিরিয়াখানায় ঢুকতে লেগেছে দীর্ঘ লাইন। শিশু পার্কগুলোতে তিল ধারণের জায়গা ছিল না। শত শত লোকের দীর্ঘ লাইন ছিল বিভিন্ন রাইডগুলোতেও।

                                

কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, ঈদ-উল-আজাহা এর ছুটি দীর্ঘদিন থাকায় অন্যানো বছরের তুলনায় এবছর পর্যটকদের ভিড় ছিল অনেক বেশি। গত বৃহস্পতিবার দুপুরের মধ্যে প্রায় শতাধিক কার, মাইক্রোবাস, বাস ও অসংখ্য পরিবহনসহ মোটরসাইকেল বিনোদন কেন্দ্রটির বিভিন্ন প্রান্তরে অবস্থান নেয়।