১২ জেলায় বন্যা অবনতির শঙ্কা

দেশে দীর্ঘস্থায়ী বড় বন্যার আশঙ্কায় সরকার আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছে। এখন পর্যন্ত ১২ জেলাকে বন্যাপ্রবণ চিহ্নিত করে ওই সব জেলায় ত্রাণ মজুদের কাজও শুরু হয়ে গেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রাখতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে দেশের পূর্বাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলার বিভিন্ন স্থান অতিবর্ষণ ও ঢলের কারণে তলিয়ে গেছে। সেখানকার মানুষ মানবেতর জীবন যাপন করছেন। উজানে ভারতের আসাম ও অন্যান্য উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোতে প্রবল বন্যা শুরু হয়েছে। ভাটির দেশ হিসাবে এই বন্যার পানি বাংলাদেশের উপর দিয়েই সাগরে নামবে।

 

 

 

 

ইতিমধ্যে এই পানি নামতে শুরু করায় উত্তরাঞ্চলের বেশ কয়েকটি জেলায় বন্যা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ইতিমধ্যে তিস্তা ব্যারেজের গেটও খুলে দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে সিলেটে বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হওয়ার পর গতকাল সোমবার থেকে আবারও সুরমা-কুশিয়ারার পানি বাড়তে শুরু করেছে। এই পরিস্থিতির পাশাপাশি ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস রয়েছে। সব মিলিয়ে বড় বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে। আবার দেশের ভাটিতে অবস্থিত নদী-খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় বন্যার পানি নিস্কাশনও বিলম্বিত হতে পারে। তাই সরকার আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছে।

 

 

 

 

গত রবিবার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় বন্যার আগাম প্রস্তুতি নিয়ে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শাহ কামাল এতে সভাপতিত্ব করেন। ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এবার ভারী বন্যার আশংকার কথা উল্লেখ করে আগাম প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। সূত্র জানায়, যে ১২ জেলা এবার দীর্ঘস্থায়ী বন্যার কবলে পড়তে পারে      সেগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। জেলাগুলো হচ্ছে – সিলেট, মৌলবীবাজার, হবিগঞ্জ, চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, সুনামগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, জামালপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবন্ধা। এ ছাড়াও বগুড়া, লালমনিরহাট, খাগড়াছড়ি জেলাতেও বন্যা দেখা দিতে পারে বলে ওই সভায় অভিমত দেয়া হয়।

 

 

 

 

সচিব মো. শাহ কামাল বলেন, বন্যা পরিস্থিতিতে মানুষের যাতে খাদ্যাভাব দেখা না দেয় বা সঞ্চলান ব্যবস্থায় বাধা তৈরি না হয় সে জন্য আগে ভাগে ওইসব জেলায় খাদ্যশষ্য মজুদ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গতকালই আলোচ্য জেলাগুলোতে ৩০০ মেট্রিক টন চাল ও ৫১ লাখ টাকা ভাগ করে দেয়া হয়েছে। এসব ত্রাণ সহায়তা জেলা প্রশাসকের তহবিলে জমা করা হচ্ছে। যাতে তাত্ক্ষণিক চাহিদা মিটানো যায়। সূত্র জানায়, বন্যা প্রবণ জেলাগুলোকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। অধিক ঝুঁকিপূর্ণ, ঝুঁকিপূর্ণ ও কমঝূঁকিপূর্ণ।

 

 

 

সার্বক্ষণিকভাবে আবহাওয়া অফিস, বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে মন্ত্রণালয়ে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু করা হয়েছে। ওই বরাদ্দের বাইরেও এখনো প্রতিটি বন্যা প্রবণ জেলায় ৫০ টন চাল ও ৫ লাখ করে টাকা দেয়া হবে। জেলা প্রশাসনকে স্থানীয় জনসাধারণকে উদ্বুদ্ধ করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে – যাতে তারা উদ্যোগ নিয়ে শুকনো খাবার, আলু, পিয়াজ, মোমবাতি, দেয়াশলাই, কেরোসিন ইত্যাদি আবশ্যকীয় দ্রব্যাদি নিয়ে প্রস্তুত থাকেন। জেলা প্রশা্সনকে প্রয়োজনীয় সংখ্যক উদ্ধার- ত্রাণবাহী নৌযান, যানবাহন ও অন্যান্য সরঞ্জামীদি প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে। সকল ও সম্ভাব্য আশ্রয়কেন্দ্র বসবাসের উপযোগী করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

 

 

 

 

এ ছাড়া স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে মেডিক্যাল টিম গঠন, পানি বিশুদ্ধ রাখার ব্যবস্থাসহ স্বাস্থ্য সম্পর্কিত কাজকর্ম নির্ধারণ করে আগেই প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। মত্স্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়কে পশু প্রাণিকুল মাছ রক্ষার আগাম ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। খাদ্য মন্ত্রণালয়কে খাদ্য মজুদ রাখার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সেবা ও সুরক্ষা বিভাগ, কৃষি, শিক্ষা, তথ্য মন্ত্রণালয় ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে বন্যার সময়ে তাদের মন্ত্রণালয়ের করণীয় নির্ধারণ করে আগাম ব্যবস্থা রাখতেও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

 

 

 

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম সচিব ও উপসচিবদের নেতৃত্বে একাধিক তদারকি কমিটি গঠন করা হয়েছে। যেখানেই ত্রাণ দেয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হবে সেখানে এসব টিম কাজ শুরু করবে।