স্বয়ংক্রিয় গাড়ি বানাবে হোন্ডা

চালকবিহীন স্বয়ংক্রিয় গাড়ি তৈরিতে পরিকল্পনা, বিনিয়োগ এবং তা বাস্তবায়ন—বর্তমানে গাড়িনির্মাতাদের উল্লেখযোগ্য একটি পদক্ষেপ। বড় বড় প্রতিষ্ঠানই চালকবিহীন স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির গাড়ি রাস্তায় নামানোর জন্য গবেষণা ও পাকাপোক্ত নকশা করছে। তবে জাপানের হোন্ডা মোটর করপোরেশন স্বয়ংক্রিয় গাড়ি তৈরিতে এত দিন ধরে দৃশ্যত বেশ পিছিয়েই ছিল।

সম্প্রতি হোন্ডা স্বয়ংক্রিয় গাড়ি তৈরির ব্যাপারে ২০২৫ সালকে লক্ষ্য ধরে তাদের পরিকল্পনার কথা প্রকাশ করেছে। যেখানে বলা হয়েছে ২০২৫ সালের মধ্যে সম্পূর্ণভাবে স্বয়ংক্রিয় গাড়ি রাস্তায় নামাবে তারা, যা হবে ২০৪০ সালের মধ্যে সড়কপথে দুর্ঘটনা নির্মূল করার প্রথম পদক্ষেপ। স্বয়ংক্রিয় গাড়ি তৈরির লক্ষ্যে হোন্ডার প্রথম পদক্ষেপ হচ্ছে ধাপ-৩ পূর্ণ করা। ধাপ-৩ বলতে গাড়ি স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রাথমিক কিছু কাজ করতে পারবে।

গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে মূলত শহরের রাস্তায় গাড়ি চালাতে অবশ্যই একজন চালকের সাহায্য দরকার হবে। আর পরের ধাপ হলো ধাপ-৪। যেখানে একটি গাড়ি প্রায় প্রতিটি নিয়ন্ত্রণ নিজের আয়ত্তে রাখতে পারবে। যদিও এই ধাপকে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় বলা যায় না। কারণ দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া বা খুব বাজে রাস্তায় একজন মানুষকে অবশ্যই গাড়ির নিয়ন্ত্রণ নিতে হবে।

হোন্ডা একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। যেখানে জাপানের রাস্তায় একটি গাড়িকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলতে দেখা যায়। যদিও এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে গাড়ি চলার ধাপ ৩-এ রয়েছে। যেখানে গাড়িটি স্থানীয় রাস্তায় চলছে এবং সাধারণ মোড় ঘুরতে দেখা গেছে। তবে ভিডিওর পরবর্তী অংশে গাড়িটিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ক্যামেরা ব্যবহার করতে দেখা যায়। পাশাপাশি লিডার এবং গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম (জিপিএস) প্রযুক্তিও আছে। যাতে গাড়িটি আরও বেশি স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলতে পারে, যা ধাপ-৪-কে নির্দেশ দেয়।

এদিকে আরেক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ফোর্ড হোন্ডার প্রায় চার বছর আগেই ২০২১ সালের মধ্যে ধাপ-৪-এর স্বয়ংক্রিয় গাড়ি রাস্তায় নামানোর লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। অপরদিকে টেলসার দাবি, তারা নাকি ২০১৭-এর শেষের দিকে ধাপ-৫-এর নমুনা প্রযুক্তি দেখাতে পারবে। যেটাকে বলা হয়ে থাকে সম্পূর্ণভাবে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি। তবে তার জন্য এমন একটি সফটওয়্যারের প্রয়োজন, যা সব কটি হার্ডওয়্যারকে একসঙ্গে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এখন দেখার বিষয় হোন্ডা তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী কতটা সফল হতে পারে।