গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭টি অনার্স কোর্সের অনুমোদন নেই !!

জাহিন সিংহ, সাভার প্রতিনিধিঃ গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭টি অনার্স কোর্সের অনুমোদন নেই। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) কর্তৃক সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষয়ে গত ২৬ শে এপ্রিল বাংলাদেশ প্রতিদিনসহ কয়েকটি পত্রিকায় একটি বিজ্ঞাপন প্রকাশ করেছে। উক্ত বিজ্ঞাপনে ইউজিসি বলেছেন, এ সমস্ত কোর্সে যেন কেউ ভর্তি না হয়। কোর্সগুলো হলো: BBA, BSS (Hons) in Inernational Relations, BA in Fine Arts, B.Sc. in Environmental Science, Bachelor of Education, M.Sc. in Applied Mathematics and LLM.

পত্রিকায় প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের বেসরকারী বিশ্বিবিদ্যালয় বিভাগের পরিচালক বলেছেন, গণ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ উল্লেখিত ৭টি প্রোগ্রামে শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য বেশ কয়েকটি পত্রিকায় ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। যা বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০ এর সম্পূর্ণ পরিপন্থি। এছাড়াও মেডিকেল, ডেন্টাল ও চিকিৎসা সংক্রান্ত কোন কোর্স বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অধিভুক্ত করে চালানো যাবে না যেমন hgb MBBS, BDS. Physiotherapy অথচ এগুলি গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছে। সরকার এ সমস্ত কোর্সসমূহে কেউ ভর্তি হয়ে ডিগ্রী অর্জন করলে তার কোন বৈধতা থাকবে না বলে জানিয়েছেন।

অতি পুরানো একটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ ও ডেন্টাল কলেজ যা ১৯৯৮ সাল থেকে চলে এসেছে এবং ইতোমধ্যে অসংখ্য শিক্ষার্থী ডিগ্রী সনদপত্র নিয়ে বের হয়ে গেছে। এর মধ্যে মেডিকেল কলেজের বিদেশী শিক্ষার্থীও রয়েছে। তাদের অনেকেই দেশে সরকারী, সামরিক বাহিনী ও বেসামরিক প্রতিষ্ঠানসমূহে চাকুরী করছেন। মেডিকেল শিক্ষার্থীদের একটি সরকারী (বিএসডিসি) সনদও দেয়া হয়েছে।

বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের শুরুতে মেডিকেল কলেজ অধিভুক্ত করার নিয়ম থাকলেও সরকার পরে বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০১০ এর ৩৫ ধারা মোতাবেক নিয়ম পরিবর্তন করে যে কোন সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অধিভুক্ত করার নিয়ম জারী করে। কিন্তু গণ বিশ্ববিদ্যালয় নানা তাল-বাহানা করে এযাবত পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করে নাই। তবে জানা গেছে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন দিয়ে রেখেছে। কিন্তু সেখানে কোন মেডিকেল কলেজ অধিভূক্ত করার সুযোগ এখনো আসেনি। তাই এই মুহুর্তে অর্থাৎ ২০১০ থেকে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে এমবিবিএস, বিডিএস ও ফিজিওথেরাপী অবৈধভাবে চলছে। এছাড়াও সরকার সকল বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়কে জয়েন্ট স্টক কোং এর সনদ গ্রহণ করতে নির্দেশ দিলেও গণ বিশ্ববিদ্যালয় এ পর্যন্ত তা সংগ্রহ করতে পারেনি। এ সবই গণ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অযোগ্যতা বলে মনে করছেন শিক্ষার্থীরা। গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি ট্রাস্টি বোর্ড থাকলেও এখানে সব কিছুই চলে ডা. জাফরুল্লাহর্‘ নির্দেশে। ট্রাস্টি সদস্যদের কোন ভূমিকা নেই। তারা শুধু মিটিং এ জি হুজুর বলে প্রস্তাব পাস করে দেয়। এদের যিনি সভাপতি তিনি এক অতি বয়স্ক বৃদ্ধা মহিলা। তার এসব দায়িত্ব পালন করার শারীরিক যোগ্যতা নেই। সকল সরকারী নিয়মকে অবজ্ঞা করাই ডা. চৌধুরীর মনোবৃত্তি। এ জন্য ট্রাইব্যুনালে তাকে ‘স্ট্রং রং হেডেড’ বলে আখ্যা দিয়েছিল।

অনুমোদনসহ এ সমস্ত কাজ করার জন্য সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে অভিজ্ঞ রেজিস্ট্রার থাকে। যিনি হবেন একজন অধ্যাপক লেভেলের জ্ঞান সম্পন্ন। কিন্তু গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের যিনি রেজিস্ট্রার তার বিরুদ্ধে নানা রকম অভিযোগ রয়েছে। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। ধর্ষণ সহ বিভিন্ন অভিযোগ এখন ইউজিসি-এর কাছে তদন্তনাধীন রয়েছে। যথা সময়ে আবেদন করে সকল অনুমোদনসমূহ সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হয়েছে গণ বিশ্ববিদ্যালয়। আর এ জন্য যতসব জটিলতা। এখন যে সমস্ত শিক্ষার্থী অবৈধ কোর্স শেষ করে বের হয়ে গেছে, যারা উক্ত কোর্সসমূহে পড়াশুনা করছে তারা খুবই হতাশার মধ্যে আছে । যেহেতু গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে ট্রাস্টি বোর্ডেরও সরকারী অনুমোদন নেই। বর্তমানে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির অনুমোদন নেই, ট্রেজারারের অনুমোদন নেই। পুরো কর্তৃপক্ষই অবৈধ।

ছাত্রছাত্রীদের দাবি, অবিলম্বে সরকার গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসন নিয়োগ করে এ কমিটি ও বর্তমান কর্তৃপক্ষকে বাতিল করে প্রতিষ্ঠানটিকে বাঁচাতে পারেন।